লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে ফের হিন্দু-মুসলিম সমীকরণ নিয়ে পারদ চড়ালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বুধবার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে তৃণমূল সরকার রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য প্রকৃতপক্ষে কোনো উন্নয়নই করেনি। দিলীপের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”
বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতা মুসলিম ভোটারদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, “এখন সময় এসেছে আপনাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার। দীর্ঘ সময় ধরে আপনারা একটি বিশেষ দলকে সমর্থন করে এসেছেন, কিন্তু বিনিময়ে কী পেয়েছেন? শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা জীবনযাত্রার মান—কোনো ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।” দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন যে, তোষণের রাজনীতি করে আসলে মুসলিম সমাজকে মূল স্রোত থেকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
দিলীপের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পালটা প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় সংখ্যালঘু দপ্তরের বাজেট কয়েক গুণ বেড়েছে এবং স্কলারশিপ থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়নে বাংলা মডেল এখন দেশের সামনে উদাহরণ। তবে দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান সংখ্যালঘু ভোট মেরুকরণের লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষত নির্বাচনের মুখে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে বিজেপির এই কৌশল কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।