মমতা আর সেই মমতা নেই! পার্থর বিস্ফোরক মন্তব্যে অস্বস্তিতে তৃণমূল, শুরু জোর জল্পনা

রাজ্য রাজনীতিতে ফের একচোট বড়সড় ভূমিকম্প! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল। এতদিন নীরব থাকলেও, এবার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক সব দাবি করলেন প্রাক্তন এই হেভিওয়েট মন্ত্রী। তাঁর এই মন্তব্যগুলি যে শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেও দাবি করেন যে, ‘নেত্রী এখন আর আগের মতো নেই, তিনি পুরোপুরি বদলে গেছেন।’ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্থর এই দাবি তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শুধু নেত্রী নয়, বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য যেন বিষম চমক! পার্থ চট্টোপাধ্যায় সরাসরি শুভেন্দুকে তৃণমূলের জন্য এক ‘বড় সম্পদ’ বলে অভিহিত করেছেন। অথচ, একটা সময় পর্যন্ত শুভেন্দু ও পার্থর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল একেবারে বিপরীত মেরুতে। এই মন্তব্য কি নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত?

এর পাশাপাশি, বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারীকে নিজের ‘নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনার আগুন আরও উসকে দিয়েছেন। পার্থর কথায়, “আমি দিদির নির্দেশে সব কাজ করেছি। তিনি যা বলেছিলেন, তা পালন করতে গিয়েই আজ আমার এই জেল খাটা।” তাঁর এই ‘দিদির নির্দেশের’ তত্ত্ব ঘিরে এখন শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূলের অন্দরমহলে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি পার্থ চট্টোপাধ্যায় বোঝাতে চাইছেন যে, দুর্নীতি বা যে কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পিছনে ওপরতলার সরাসরি নির্দেশ ছিল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্থর এই একের পর এক বিস্ফোরক বয়ান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের পথ প্রশস্ত করতে পারে। একসময়ের ‘পাওয়ার হাউস’ নেতা যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন, তখন তার প্রভাব শুধু তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরেই নয়, আসন্ন ভোটের অঙ্কেও বড়সড় ছাপ ফেলে। শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে করা মন্তব্য এবং শিশির অধিকারীকে শ্রদ্ধা জানানো—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বিরোধীরা এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে নতুন করে সরব হওয়ার রসদ পাচ্ছে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য তৃণমূল নেতৃত্ব কীভাবে সামলাবে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের শাসকদল এই মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পার্থর মতো একজন প্রবীণ ও ঘনিষ্ঠ নেতা, যিনি দীর্ঘ সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন, তাঁর এহেন মন্তব্যকে সহজে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। রাজ্য রাজনীতির এই নতুন মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy