তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বর্তমানে চরম অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান এবং লোকসভায় তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নগুলি এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। সূত্রের দাবি, দলের অন্দরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে—একদিকে প্রবীণ বা পুরনো নেতৃত্বের একাংশ এবং অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব। এই দুই শিবিরের টানাপোড়েনে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, লোকসভার দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবুও সংসদীয় দলের ভেতরে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট। খবর অনুযায়ী, লোকসভার অনেক সাংসদই এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মানতে নারাজ অথবা নিয়মিত দলীয় বৈঠক এবং সমন্বয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন না। সংসদীয় দলের এই বিশৃঙ্খলা তৃণমূলের ঐক্যকে প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে মাত্র ছয় জন সাংসদের উপস্থিতি এই অস্থিরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত থাকলেও, বাকি সাংসদদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বড় ধরণের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন।
সংসদীয় দলের এই দুর্বলতা জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রভাবকে কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল নেতৃত্ব এখন সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। তবে দিল্লি থেকে আসা খবর অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। শোনা যাচ্ছে, ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বিল এবং ডিলিমিটেশন বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস এখন এক গভীর সংকটের সম্মুখীন, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।





