বাংলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রের বা রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই নিজের পাড়ায় ফিরলেন ‘ঘরের ছেলে’ দিলীপ ঘোষ। শপথ গ্রহণের পর সোমবার খড়গপুরে পা রাখতেই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয় অভূতপূর্ব উন্মাদনা। তবে মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রথম কাজ ছিল অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। ক্ষমতার অলিন্দে যাওয়ার আগে তিনি পৌঁছে যান নিজের আদি বাড়িতে, যেখানে মা এবং দিদির আশীর্বাদ নেন রাজ্যের এই হেভিওয়েট নেতা।
খড়গপুরে নিজের বাড়িতে পৌঁছে মায়ের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান পরিবারের সঙ্গে। দিদির হাতে মিষ্টি খেয়ে পারিবারিক আড্ডায় মাতেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে কড়া মেজাজে পরিচিত দিলীপ ঘোষকে এদিন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অবতারে দেখা যায়। তবে পারিবারিক মুহূর্ত কাটিয়ে বাইরে বেরোতেই ফের স্বমহিমায় ধরা দেন তিনি। খড়গপুরের রাস্তায় আয়োজিত বিশাল বিজয় মিছিলে পা মেলান নতুন মন্ত্রী। রাস্তার দুধারে হাজার হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে। শঙ্খধ্বনি এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক বড় বার্তা দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, “পদ পেয়েছি মানুষের সেবা করার জন্য। খড়গপুর তথা গোটা বাংলার উন্নয়নের জন্য দিনরাত কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য হবে জঙ্গলমহল থেকে উত্তরবঙ্গ—উন্নয়নের জোয়ার প্রতিটি মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া।” একই সঙ্গে তিনি বিরোধী শিবিরকে একহাত নিয়ে বলেন যে, উন্নয়নের রাজনীতিই শ্রেষ্ঠ এবং মানুষ কাজের নিরিখেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে। মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়ে তিনি যে দমে যাওয়ার পাত্র নন, বরং খড়গপুরের মাটি থেকেই আগামীর জয়ের নীল নকশা তৈরি করবেন, তা এদিন তাঁর শরীরী ভাষাতেই স্পষ্ট ছিল।





