মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমিত করতে পাকিস্তানের মাটিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে মেগা শান্তি আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ‘ধারাবাহিক’ বলে দাবি করলেও, খোদ আলোচনার টেবিল থেকেই মিলছে বিপরীত ছবি।
কী ঘটছে পাকিস্তানের মাটিতে? (Live Updates):
ইরানের অনুপস্থিতি: আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার কথা ছিল তেহরানের। কিন্তু সব আয়োজন সম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো প্রতিনিধি বৈঠকে যোগ দেননি।
আমেরিকার উপস্থিতি: মার্কিন প্রতিনিধি দল নির্ধারিত সময়েই ইসলামাবাদে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও প্রতিপক্ষের দেখা না মেলায় পরিস্থিতি থমথমে।
পাকিস্তানের দাবি: পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক বারংবার দাবি করছে যে, পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে এবং ইরান শীঘ্রই বৈঠকে যোগ দেবে। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই অনুপস্থিতি আমেরিকার প্রতি তাদের অনড় মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
অশান্তির মেঘ: শান্তি আলোচনার আগেই সীমান্তে নতুন করে অশান্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হওয়ার বদলে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
কেন এই বৈঠক এত গুরুত্বপূর্ণ? দীর্ঘদিন ধরেই ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা ও ইরান কার্যত যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। পাকিস্তান এই দুই দেশের মধ্যে সেতু হওয়ার চেষ্টা করলেও ইরানের ‘অনুপস্থিতি’ সেই চেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা দিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বৈঠকে না বসে, তবে ওয়াশিংটন আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তান এই আলোচনার ব্যর্থতার দায় কার ওপর চাপায়, সেটাই এখন দেখার। সারা বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকখানার দিকে, যেখানে কেবল একদিকেই বসে আছেন বাইডেন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।





