২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নে প্রশাসনিক বজ্রপাত! মধ্যরাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই রদবদল নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখনই সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে এবার ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে তামিলনাড়ুতে পাঠাল কমিশন।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব হয়েছেন ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষ। এখানেই শেষ নয়, কোপ পড়েছে পুলিশ প্রশাসনেও। ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে আনা হয়েছে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে এবং কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে অজয় নন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সিদ্ধান্তকে ‘মধ্যরাতের ষড়যন্ত্র’ বলে তোপ দেগেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই দাবি করেছিলেন যে পক্ষপাতদুষ্ট আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানো উচিত। জগদীশ মীনাকে তামিলনাড়ু পাঠানো কি সেই দাবিরই প্রতিফলন? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অপসারিত আধিকারিকরা নির্বাচনের কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।