মধ্যরাতেই কি বদলে যাচ্ছে বাংলার কুর্সি? মমতা সরলে কার হাতে নবান্নের চাবিকাঠি? জানুন সাংবিধানিক সত্য

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর বাংলায় এখন গেরুয়া আবহাওয়া। ২০৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস নেমে এসেছে মাত্র ৮০টি আসনে। কিন্তু ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরও বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট।

ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা: বাড়ছে উত্তেজনা

ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে ইস্তফা দেবেন? মঙ্গলবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই ইস্তফা দিচ্ছেন না। তাঁর দাবি, এই জয় ‘জনগণের ম্যান্ডেট’ নয়, বরং ‘ভোট লুট’ এবং ‘ষড়যন্ত্রের’ ফল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি কেন ইস্তফা দেব? আমরা হারিনি। জনগণের রায় চুরি করা হয়েছে।”

মুখ্যমন্ত্রী সরলে রাজ্য চালাবেন কে?

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে পরাজয়ের পর ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। এরপর রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর জেদ বজায় রাখেন, তবে কী হবে?

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার: সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকেই ‘তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ করেন রাজ্যপাল। কিন্তু মমতা যদি স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়েন, তবে রাজ্যপাল আর এন রবি কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন।

  • রাজ্যপালের ক্ষমতা: আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর কোনও মুখ্যমন্ত্রী পদ আঁকড়ে ধরে থাকলে রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাখেন। এমনকি বর্ষীয়ান আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়লে রাজ্যপাল পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে সরকারি দপ্তর থেকে সরাতেও পারেন।

  • রাষ্ট্রপতি শাসন? পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায় এবং কোনও দল সরকার গঠনে দেরি করে, তবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য রাজ্যে ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্যপালই পুরো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেবেন।

বিজেপির তোপ ও আগামী দিনের লড়াই

এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে মমতার এই অবস্থানকে ‘সাংবিধানিক অবমাননা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী এবং সম্বিত পাত্রের মতো নেতারা দাবি করেছেন, গণতন্ত্রকে সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত তৃণমূল নেত্রীর। অন্যদিকে মমতা জানিয়েছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন এবং বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করবেন।

বাংলার মসনদে নতুন কেউ বসবেন নাকি আইনি লড়াইয়ে ঝুলে থাকবে নবান্নের ভাগ্য— এখন সেটাই দেখার। আপাতত মধ্যরাতের পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy