মধুর রাত কাটল বাঙ্কারে! পশ্চিম এশিয়ায় পা রাখতেই নবদম্পতির যা পরিণতি হল, শুনলে বুক ফেটে যাবে!

প্রেমের শহর থেকে যুদ্ধের নরক—দূরত্বটা যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার, তা হাড়হাঁড় কপালে টের পেলেন এই নবদম্পতি। বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে দুজনে স্বপ্ন দেখেছিলেন পশ্চিম এশিয়ার নীল সমুদ্র আর সোনালী বালুকাময় সৈকতে মধুচন্দ্রিমা কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নই যে তাঁদের জীবনের চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা। গত সপ্তাহে যখন এই দম্পতি সেখানে পৌঁছান, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় ইরান ও ইজরায়েলের সেই প্রলয়ঙ্করী লড়াই।

সৈকতে নয়, ঠাঁই হলো বাঙ্কারে: বিলাস বহুল হোটেলের ঘর ছেড়ে এই নবদম্পতিকে প্রথম রাতেই আশ্রয় নিতে হয়েছে মাটির তলায় স্যাঁতস্যাঁতে বাঙ্কারে। মাথার ওপর দিয়ে ধেয়ে আসা ইজরায়েলি ফাইটার জেটের গর্জন আর পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্রের ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে যায় তাঁদের প্রেমের স্বর্গ। হোটেলের জানলার কাঁচ ভেঙে যখন তাঁদের গায়ের ওপর পড়ে, তখন দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে কেবল বাঁচার তাগিদে দৌড়াতে শুরু করেন দুজনে। স্থানীয় সংবাদ সূত্রের খবর, যুদ্ধের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা নিখোঁজ হয়ে যান।

মর্মান্তিক সেই মুহূর্ত: সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ধুলোবালি মাখা বিয়ের আংটি হাতে এক যুবক তাঁর স্ত্রীর খোঁজে ধ্বংসস্তূপের মাঝে চিৎকার করছেন। জানা গিয়েছে, আচমকা এক ড্রোন হামলায় তাঁদের হোটেলের একাংশ ভেঙে পড়ে, যেখানে তাঁরা দুজনে হাত ধরে বসেছিলেন। পরবর্তীকালে উদ্ধারকারীরা যখন তাঁদের উদ্ধার করেন, তখন দেখা যায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তাঁরা। স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে। স্বামীর দুই পা চিরতরে হারিয়ে গিয়েছে এক বিস্ফোরণে।

আর্তনাদ ও বর্তমান পরিস্থিতি: তাঁদের পরিবার জানিয়েছে, বারবার বারণ করা সত্ত্বেও শখ মেটাতে তাঁরা ওই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে গিয়েছিলেন। এখন দেশে ফেরার পথ বন্ধ, আকাশসীমাও রুদ্ধ। তাঁদের এই পরিণতি দেখে চোখে জল নেটিজেনদের। অনেকেই লিখছেন, “যুদ্ধের কোনো ধর্ম নেই, নেই কোনো প্রেম। এটি কেবল নিরপরাধ মানুষের স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।” এই নবদম্পতির গল্প এখন কেবল একটি খবর নয়, বরং যুদ্ধের বিভীষিকার এক জীবন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy