শনিবার গভীর রাতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় আহত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা প্রবীণ বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের বাড়িতে বসে লেখার কাজ করছিলেন তিনি। সেই সময় হঠাৎই মাথা ঘুরে ভারসাম্য হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যান প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। এই পতনের ফলে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তপাত শুরু হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পরিবার ও অনুগামীদের মধ্যে। তড়িঘড়ি তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, পড়ে গিয়ে অশোকবাবুর মাথা ফেটে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি তাঁর মাথায় ছয়টি সেলাই করেন। আঘাতের গভীরতা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা তৎক্ষণাৎ সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। রবিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আঘাতের অভ্যন্তরীণ অবস্থা নিখুঁতভাবে বুঝতে চিকিৎসকরা এমআরআই (MRI) রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই প্রবীণ নেতার অসুস্থতার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। রবিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অশোকবাবুর ফোনে কথোপকথনের ব্যবস্থা করে দেন। ফোনালাপে মুখ্যমন্ত্রী প্রবীণ এই নেতার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। অশোকবাবু তাঁকে সিটি স্ক্যান ও রিপোর্টের অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও এই ঘটনাটি ব্যক্তিগত সৌহার্দ্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ও অশোকবাবুর এই কথোপকথনে উঠে এসেছে আসন্ন উত্তরবঙ্গ সফরের প্রসঙ্গও। আগামী ১৬ বা ১৭ জুন মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের কথা রয়েছে। শিলিগুড়ি হয়ে তাঁর কার্শিয়াং যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফর নিয়েও দু’জনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে।
পাশাপাশি, অশোকবাবুও মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে অশোকবাবুর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। শিশির অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। তাই মুখ্যমন্ত্রী যেমন তাঁর খোঁজ নিয়েছেন, অশোকবাবুও তাঁর বাবার কুশল বিনিময় করেছেন।” বাংলার বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে এই মানবিক মুহূর্তটি রবিবার শিলিগুড়িতে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে। फिलहाल চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে প্রবীণ এই বাম নেতাকে বিশ্রামে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





