ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সেই ঐতিহাসিক শোভাযাত্রার নাম আবারও পরিবর্তন করা হয়েছে। ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ও ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পর এবার সরকার এর নতুন নাম নির্ধারণ করেছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। মূলত দীর্ঘদিনের নামগত বিভাজন দূর করতে এবং সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
১৯৮৯ সালে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই বর্ণাঢ্য মিছিলটি পরবর্তীতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এর নাম কয়েক দফা পরিবর্তিত হলো। আয়োজকদের মতে, নাম পরিবর্তন হলেও উৎসবের মূল চেতনা বা তাৎপর্য বদলে যাচ্ছে না, বরং এটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সেক্যুলার রূপ পাচ্ছে। চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম শেখ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান রেখে তারা আয়োজনের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখতেই সচেষ্ট।
তবে সমালোচকরা বলছেন ভিন্ন কথা। বারবার নাম পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও এর আন্তর্জাতিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, এটি নিছকই রাজনীতি। তা সত্ত্বেও, বর্ণিল মুখোশ, ভাস্কর্য আর বাদ্যযন্ত্রের তালে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বরাবরের মতোই প্রস্তুত চারুকলা।





