২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। স্ক্রুটিনির শেষ পর্যায়ে এসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘হাই-প্রোফাইল’ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল (Reject) করে দিল নির্বাচন কমিশন। এই আকস্মিক ঘটনায় ওই কেন্দ্রে তৃণমূলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
কেন বাতিল হলো মনোনয়ন? সূত্রের খবর, হলফনামায় তথ্যের অসংগতি অথবা নির্দিষ্ট কিছু আইনি নথি পেশ না করার কারণেই কমিশন এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে স্ক্রুটিনি চলার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। যদিও তৃণমূল শিবিরের দাবি, এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে প্রার্থীকে আটকানো হচ্ছে।
এবার কী হবে? বিকল্প কী? মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় ওই কেন্দ্রে এখন তৃণমূলের কোনো ‘অফিসিয়াল’ প্রার্থী থাকল না। এক্ষেত্রে শাসক দলের কাছে দুটি পথ খোলা আছে:
ডামি প্রার্থীর লড়াই: যদি ওই কেন্দ্রে কোনো ‘ডামি’ বা বিকল্প প্রার্থী আগে থেকে ফর্ম জমা দিয়ে থাকেন, তবে তিনি এখন তৃণমূলের প্রধান মুখ হয়ে উঠবেন।
আইনি লড়াই: কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তড়িঘড়ি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে ঘাসফুল শিবির।
রাজনৈতিক সমীকরণ: এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের জন্য ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ ছিল। প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সেখানে বিরোধীরা, বিশেষ করে বিজেপি বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রার্থীর সমর্থকরা ইতিমধ্যেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। রাতের দিকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকতে পারেন।
শেষ মুহূর্তে কার ভাগ্যে শিঁকে ছিঁড়বে নাকি ওই আসনটি তৃণমূলের হাতছাড়া হবে, তা নিয়েই এখন উত্তপ্ত গোটা রাজ্য।





