রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) ঘোষণা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে বিন্দুমাত্র বাড়তি গুরুত্ব না দিয়ে বরং একে নিজেদের দীর্ঘ আন্দোলনের ‘প্রাথমিক জয়’ হিসেবেই দেখছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে এই ঘোষণায় তারা যে দমে যাচ্ছে না, বরং আরও আগ্রাসী মেজাজে আন্দোলনের পথে হাঁটবে, তার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ।
ভাস্কর ঘোষ রাজ্য সরকারকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “বাঘ যখন রক্তের স্বাদ পায়, তখন তার তেজ আরও বাড়ে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা বুঝতে পেরেছি যে আমাদের লড়াই সঠিক জায়গায় পৌঁছেছে। এটা আমাদের সংগ্রামীদের লড়াইয়ের ফল।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে, কিস্তিতে ডিএ ঘোষণা করে কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করা সম্ভব হবে না। যৌথমঞ্চের দাবি এখনও অপরিবর্তিত—কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই এবং রাজপথে ধর্ণা প্রদর্শন সত্ত্বেও সরকার কর্ণপাত করেনি। এখন ভোট সামনে আসতেই যৎসামান্য ডিএ বাড়িয়ে সরকারি কর্মীদের মন জয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, এটি তাঁদের নৈতিক জয় এবং এর ফলে আগামী দিনে আন্দোলনের তেজ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। ইতিমধ্যে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মঞ্চ। তাঁদের দাবি, যতদিন না ১০০ শতাংশ ডিএ কার্যকর হচ্ছে, ততদিন এই সংগ্রাম থামবে না। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে ডিএ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনের অস্বস্তি যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।