ভোটের ময়দানে হারলেও রাজনীতির দাবার চালে কি কিস্তিমাত করলেন মোদি? ফাঁস গোপন কৌশল!

লোকসভার অন্দরে শুক্রবার এক নজিরবিহীন টানটান উত্তেজনার সাক্ষী থাকল দেশ। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং সেই বর্ধিত আসনে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সংস্থান রেখে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি শেষ পর্যন্ত পাশ করাতে ব্যর্থ হল মোদি সরকার। ভোটাভুটির গণিতে সরকার হারলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘পরাজয়’ আসলে বিজেপির এক সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ।

ভোটের সমীকরণ ও ব্যর্থতা
এ দিন লোকসভায় বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ২২৩টি। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য উপস্থিত সদস্য সংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন ছিল। ৫২৮ জন সাংসদ উপস্থিত থাকায় বিলটি পাশ করতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ৩৫২টি ভোট। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ম্যাজিক ফিগার থেকে প্রায় ৫০টি ভোট দূরেই থমকে যায় সরকার পক্ষ। ফলে সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে আসন বাড়ানোর যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েছিল, তা আপাতত বিশ বাঁও জলে।

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও কেন এই ঝুঁকি?
প্রশ্ন উঠছে, পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই জেনেও কেন উচ্চঝুঁকির এই ভোটাভুটিতে গেল সরকার? বিজেপির শীর্ষ কৌশলবিদদের মতে, এটি ছিল একটি ‘আইনগত রেকর্ড’ তৈরির চেষ্টা। প্রতিটি সাংসদকে ভোট দিতে বাধ্য করে মোদি সরকার আসলে বিরোধীদের একটি ‘লিঙ্ক’ তৈরি করে দিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফলাফল ঘোষণার পরেই একে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের ‘ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে দেগে দিয়েছেন। আসন্ন রাজ্য বিধানসভা এবং ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এখন এই ভোটকেই হাতিয়ার করবে। জনসাধারণের কাছে বার্তা যাবে— মোদি সরকার নারীদের অধিকার দিতে চেয়েছিল, কিন্তু বিরোধীরাই তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাহুলের ‘ব্যাচেলর’ রসিকতা ও সংসদীয় মেজাজ
তপ্ত বিতর্কের মাঝেই এদিন কিছুটা হালকা মেজাজ ধরা পড়ে রাহুল গান্ধীর গলায়। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে রাহুল রসিকতা করে বলেন, ‘আমার আর প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সংক্রান্ত কোনও ঝামেলা নেই!’ তাঁর এই ‘ব্যাচেলর’ হিউমারে হাসির রোল ওঠে কক্ষে। তবে কড়া ভাষায় তিনি ডিলিমিটেশনকে ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘বিষাক্ত বড়ি’ বলে আখ্যা দেন। বিরোধীদের দাবি ছিল, নারী সংরক্ষণে সমর্থন থাকলেও এর সঙ্গে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সরাসরি যোগসূত্র নিয়ে সরকার লুকোচুরি খেলছে।

বিরোধীদের ‘মুখোশ’ খোলার চাল?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিলটি ছিল আসলে বিরোধীদের একতা পরীক্ষার একটি ‘ওয়েজ ইস্যু’। আসন সংখ্যা ৮৫০ করার টোপ দিয়ে আঞ্চলিক দলগুলিকে টানতে চেয়েছিল বিজেপি। তাতে সফল না হলেও, বিরোধীদের ১৯৭১ সালের পুরনো পরিকাঠামো আঁকড়ে থাকা রক্ষণশীল শক্তি হিসেবে জনসমক্ষে তুলে ধরতে পেরেছে সরকার।

এই পরাজয়ের পর বিজেপির বয়ান স্পষ্ট— ‘আমাদের ইচ্ছা আছে, কিন্তু সংখ্যাতত্ত্বের দোহাই দিয়ে বিরোধীরা নারী শক্তিকে পিছিয়ে রাখছে।’ ফলে লোকসভার অন্দরের এই হারকে ২০২৯-এর নির্বাচনী যুদ্ধের বড় রসদ বানিয়ে ফেলল বিজেপি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy