সোমবার তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। কিন্তু গণনা শুরু হওয়ার আগেই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই নাম— সুপারস্টার বিজয় এবং তাঁর নতুন দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK)। বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার (১১৮) ছুঁতে বিজয়ের সমর্থনই হতে পারে শেষ কথা। ডিএমকে না কি এআইএডিএমকে— কার কপালে জুটবে থলপতির আশীর্বাদ? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা দেশ।
কিং-মেকার না কি কিং? ৪টি সম্ভাব্য চিত্র
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিজয়ের অবস্থান নিয়ে চারটি রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির কথা বলছেন:
১. একক বৃহত্তম দল ও কংগ্রেসের সমর্থন: অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজয়ের দল ৯৮ থেকে ১২০টি আসন পেতে পারে। এমনটা হলে বিজয় কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার চেষ্টা করতে পারেন। যদিও কংগ্রেস এখন ডিএমকে-র জোটসঙ্গী, তবে পর্দার আড়ালে বিজয়ের সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্বের বৈঠকের খবর আগেই মিলেছে।
২. এআইএডিএমকে-র সঙ্গে কি হাত মেলাবেন? বিজয় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডিএমকে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক শত্রু এবং বিজেপি তাঁর আদর্শগত শত্রু। এই অবস্থায় বিজেপি-র জোটসঙ্গী এআইএডিএমকে-কে সমর্থন করা বিজয়ের জন্য অস্বস্তির হতে পারে। তবে জল্পনা আছে, সরাসরি জোটে না গিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন নিয়ে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের স্টাইলে সরকার গড়তে পারেন তিনি।
৩. ডিএমকে-র সঙ্গে আপস? যদি ডিএমকে একক বৃহত্তম দল হয় এবং তাদের বিজয়ের সাহায্য লাগে, তবে বিজয় কি উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ দাবি করবেন? স্ট্যালিন বিরোধিতার সুর চড়া থাকলেও ক্ষমতার স্বার্থে তামিল রাজনীতিতে নতুন মোড় আসতেই পারে।
৪. আইনি জটিলতা ও বিজেপির সমীকরণ: বিজয়ের নতুন ছবি ‘জন নাগায়ান’-এর মুক্তি নিয়ে জটিলতা এবং তাঁর সভায় পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার সিবিআই তদন্ত চলছে। এই চাপ সামলাতে বিজয় শেষ পর্যন্ত এআইএডিএমকে-বিজেপি অক্ষের দিকে ঝুঁকবেন কি না, তা নিয়েও অঙ্ক কষছেন অনেকে।
আত্মবিশ্বাসী বিজয়ের শিবির
যদিও সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে বিজয়ের দল টিভিকে। দলের নেতা কে. ভি. সেনগোত্তাইয়ানের দাবি, “কারও দয়ার প্রয়োজন নেই, আমরা একাই ১৮০টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসছি।”
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সিনেমার পর্দার নায়ক কি বাস্তবের প্রশাসনিক নায়ক হয়ে উঠতে পারবেন? উত্তর মিলবে আগামীকাল ডেইলিয়ান্ট-এর লাইভ আপডেটে। চোখ রাখুন আমাদের পাতায়।





