২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে তপ্ত বাংলার মাটি। রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া— সর্বত্রই যুযুধান পক্ষগুলোর বাগযুদ্ধ চরমে। কিন্তু এরই মাঝে খোদ নির্বাচন কমিশনের নাম জড়িয়ে একটি অদ্ভুত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। পোস্টটিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগে যেন সবাই ঘরে ‘বার্নল’ এবং ‘বোরোলিন’ মজুত রাখেন!
ঠিক কী লেখা রয়েছে ওই ভাইরাল পোস্টে? সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমজনতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ব্যাঙ্গাত্মক সুরে বলা হয়েছে, “ভোটের ফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি এমন হবে যে বার্নল ও বোরোলিনের আকাল দেখা দিতে পারে। তাই আগেভাগেই তা মজুত করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।” রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খোঁচা দিতেই যে এই ‘বার্নল’ শব্দটির ব্যবহার, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি কারোরই।
কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও নেটিজেনদের চর্চা: এই পোস্টটি ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। যদিও কমিশন সূত্রে খবর, এই ধরণের কোনো বার্তা বা নির্দেশিকা সরকারিভাবে দেওয়া হয়নি। কোনো এক অতি-উৎসাহী নেটিজেনের তৈরি করা এই মিম বা পোস্টটি এখন ঝড়ের গতিতে ঘুরছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের দেওয়ালে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার ভোট মানেই যেমন উত্তেজনা, তেমনই এই ধরণের রাজনৈতিক শ্লেষ বা ‘মিম’ সংস্কৃতি এখন প্রচারের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে খোদ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এমন বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়ানোয় কড়া নজরদারির দাবিও উঠেছে।
কেন এই ‘বার্নল’ বিতর্ক? রাজনৈতিক মহলে জয়-পরাজয়ের পর বিজিত পক্ষকে খোঁচা দিতে ‘বার্নল’ শব্দটির ব্যবহার নতুন নয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই যেভাবে কমিশনের লোগো ব্যবহার করে এই রসিকতা করা হয়েছে, তাতে যেমন হাসির রোল উঠেছে, তেমনই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
ভোটের উত্তাপে কে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে আর কার সত্যিই ‘বার্নল’ লাগবে, তা তো সময় বলবে। তবে আপাতত এই ভাইরাল পোস্টটি যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুপারহিট, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।





