ভোটের আগে পাহাড়ে নয়া মোড়! শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ, তৃণমূলের আপত্তি কেন? তোলপাড় দার্জিলিং

বিধানসভা নির্বাচনের মাস সাতেক আগে দার্জিলিং পাহাড়ের গোর্খা সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রের হঠাৎ সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে পারদ চড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনওরকম পরামর্শ না করেই গোর্খা জনজাতির রাজনৈতিক দাবি পূরণের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শনিবারই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) একটি চিঠি লিখে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন।

কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ও মমতার অভিযোগ:

গত ১৬ অক্টোবর কেন্দ্র সরকার অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার ও প্রাক্তন বিএসএফ প্রধান পঙ্কজ কুমার সিংহকে দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেয়। কেন্দ্রের দাবি, গোর্খা জনজাতির রাজনৈতিক দাবি মেটাতেই এই পদক্ষেপ।

কিন্তু এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে ‘সহযোগিতামূলক ফেডারেল কাঠামোর পরিপন্থী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) আওতাধীন এই অঞ্চলের শান্তি, শাসন এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

ত্রিপাক্ষিক চুক্তির স্মরণ:

মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে মনে করিয়ে দেন, ২০১১ সালের ১৮ জুলাই কেন্দ্র, রাজ্য ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমেই জিটিএ গঠিত হয়েছিল। সেখানে তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, সেই সময় থেকে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাতেই পাহাড়ে শান্তি ও স্থিতি বজায় রয়েছে।

মমতা আরও লেখেন, “এই সংবেদনশীল বিষয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। গোর্খা সম্প্রদায় বা জিটিএ সংক্রান্ত যে কোনও উদ্যোগ রাজ্য সরকারের পূর্ণ পরামর্শে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়।”

বিজেপি ও গোর্খা দলগুলির প্রতিক্রিয়া:

কেন্দ্রের এই নিয়োগকে অবশ্য স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি (BJP) এবং পাহাড়ের স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি— গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (GJM) ও গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (GNLF)। তারা এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে দেখছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ে অস্থিরতা তৈরির এবং রাজনৈতিক কৌশল বলেই ব্যাখ্যা করছে। মুখ্যমন্ত্রী চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, রাজ্যের সঙ্গে কোনও পরামর্শ ছাড়াই জারি করা এই নিয়োগপত্র পুনর্বিবেচনা করে বাতিল করার জন্য, যা ফেডারেল কাঠামো ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রকৃত চেতনার প্রকাশ হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy