ভোটের আগে নদীয়ায় গণ-ছাঁটাই! প্রায় আড়াই লক্ষ মহিলার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ‘চক্রান্ত’ দেখছে তৃণমূল

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নদীয়ার ভোটার তালিকা ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। জেলার সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে এক ধাক্কায় ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭ জনই মহিলা। এক দশক পর জেলার ভোটার সংখ্যা এভাবে কমে ২০১৬ সালের অবস্থানে ফিরে আসায় তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছে ওয়াকিবহাল মহল।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে এক ‘পরিকল্পিত চক্রান্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধাভোগী মহিলাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া মহিলারা যেহেতু তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, তাই ভোটের আগে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিরোধীরা। রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ এবং নাকাশিপাড়ার মতো এলাকায় হাজার হাজার মহিলার নাম উধাও হওয়ার ঘটনায় এখন ক্ষোভে ফুঁসছে জেলা।

কেন এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গেল? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর থেকেই তালিকা ছোট হতে শুরু করে। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র মতো কঠিন কারিগরি অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিবাহের পর পদবি পরিবর্তন বা নথির সামান্য অমিল থাকায় বৈধ ভোটার হওয়া সত্ত্বেও মহিলারা বিপাকে পড়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। ১০ বছর আগের ভোটার সংখ্যার সমান হয়ে যাওয়া নদীয়া জেলার ভবিষ্যৎ ভোটব্যাঙ্কে এই পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy