বঙ্গ রাজনীতির রণক্ষেত্রের উত্তাপ এখন চরমে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই ২০২১-এর চেয়েও অনেক বেশি জটিল। আর এই জটিল অঙ্কের কেন্দ্রে রয়েছে রাজ্যের নির্দিষ্ট ১০টি আসন। ভোটকুশলীদের দাবি, এই ১০টি আসনে যদি ঘাসফুল শিবির পরাজিত হয়, তবে তৃণমূলের হ্যাটট্রিক পরবর্তী জয়রথ থমকে যেতে পারে।
কেন এই ১০ আসন এত গুরুত্বপূর্ণ? পরিসংখ্যান বলছে, এই কেন্দ্রগুলি মূলত উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত। গত লোকসভা নির্বাচনে এই এলাকাগুলিতে বিজেপি ব্যাপক ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করেছিল। তালিকায় রয়েছে নন্দীগ্রাম, যেখানে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের প্রেস্টিজ ফাইট। এছাড়াও ভবানীপুর, শান্তিপুর, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, বালুরঘাট, খড়গপুর সদর, শিলিগুড়ি, আসানসোল দক্ষিণ, বিষ্ণুপুর এবং বসিরহাট।
বিজেপির ‘চার্জশিটে’র পাল্টা তৃণমূলের ‘উন্নয়ন কার্ড’ কাজ করবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে মতুয়া ভোট ও উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোট যেদিকে ঝুঁকবে, নবান্নের চাবিকাঠি তাদের হাতেই থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ১০টি আসনে হার মানে শুধু ১০টি বিধায়ক হারানো নয়, বরং একটি বড় অংশের জনসমর্থন হাতছাড়া হওয়া, যা ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ ছোঁয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।