ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া (Special Intensive Revision বা SIR) সংক্রান্ত মামলায় এক যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফলে যদি দেখা যায় যে প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান, ভোট দিতে না পারা মানুষের সংখ্যার চেয়ে বেশি, তবে আদালত সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে না।
সুপ্রিম কোর্টের মূল যুক্তি: বিচারপতিদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দুটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে:
জয়ের ব্যবধান (Margin of Victory): ধরুন, কোনো প্রার্থী ৫০,০০০ ভোটে জিতেছেন।
বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা: ওই কেন্দ্রে যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা ১০,০০০ হয়, তবে ওই ১০,০০০ জন ভোট দিলেও ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসত না।
আদালতের অবস্থান: এই ধরণের ক্ষেত্রে আদালত নির্বাচন বাতিল বা হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন মনে করবে না। কারণ, যান্ত্রিক বা পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও তা চূড়ান্ত ফলাফলকে প্রভাবিত করেনি।
কখন হস্তক্ষেপ করবে আদালত? সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যদি দেখা যায় জয়ের ব্যবধান মাত্র ৫০০ ভোটের, কিন্তু ওই কেন্দ্রে ভুলবশত ৫,০০০ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—সেক্ষেত্রে আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। কারণ, ওই ৫,০০০ মানুষের ভোটাধিকার জয়-পরাজয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারত।
মামলাকারীদের উদ্বেগ: আদালতের এই পর্যবেক্ষণে কিছুটা হতাশ মামলাকারীরা। তাঁদের দাবি, ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান যা-ই হোক না কেন, একজন বৈধ নাগরিককে ভোট দিতে না দেওয়াটা গণতন্ত্রের অপমান। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, নির্বাচনের ব্যাপকতা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখেই এই ‘লজিক্যাল’ অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত: আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের ফলে নির্বাচন পরবর্তী মামলা বা ‘ইলেকশন পিটিশন’-এর ক্ষেত্রে এক নতুন দিক উন্মোচিত হলো। এটি যেমন নির্বাচন কমিশনের ওপর থেকে কিছুটা চাপ কমাবে, তেমনই পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ভোট দিতে না পারা নাগরিকদের আইনি লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।





