ভোটারদের ভয় দেখাতে পারবে না কেউ! বুথে আনতে ‘হেল্প লাইন’ চালু করলেন অধীর চৌধুরী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিণ—তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। এই আবহে নিজের গড় বহরমপুরকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা তথা বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীররঞ্জন চৌধুরী। সোমবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি সাধারণ ভোটারদের জন্য একটি বিশেষ ‘হেল্প লাইন’ নম্বর চালু করার কথা ঘোষণা করলেন।

কী এই হেল্প লাইনের উদ্দেশ্য? অধীর চৌধুরী জানান, নির্বাচনের দিন বা তার আগে ভোটারদের অনেক সময় ভয় দেখানো হয় বা বুথে যেতে বাধা দেওয়া হয়। এই সমস্যা মোকাবিলা করতেই তাঁর এই উদ্যোগ:

  • তাৎক্ষণিক সহায়তা: কোনো ভোটার যদি বুথে যাওয়ার পথে বাধার সম্মুখীন হন কিংবা কেউ যদি তাঁদের হুমকি দেয়, তবে সরাসরি ওই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে।

  • কংগ্রেস কর্মীদের নজরদারি: অধীরবাবুর দাবি, হেল্পলাইনে ফোন আসার সাথে সাথেই স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা এবং দলের লিগ্যাল সেল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে জানাবে।

  • ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো: মূলত সাধারণ মানুষের মনে সাহস জোগাতেই এই ডিজিটাল ও টেলিফোনিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে অধীরের হুঙ্কার: এদিন সাংবাদিক বৈঠকে অধীররঞ্জন চৌধুরী শাসক দলের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে দেওয়া হবে না। বহরমপুরের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোট নিজে দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।”

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো জেলাগুলোতে যেখানে কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে কড়া টক্কর হওয়ার সম্ভাবনা, সেখানে ভোটারদের বুথে নিয়ে আসাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। অধীর চৌধুরীর এই ‘হেল্প লাইন’ কৌশল আসলে ভোটারদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি পথ।

এখন দেখার, এই হেল্পলাইন নম্বর ভোটের দিন বহরমপুরের সাধারণ মানুষের জন্য কতটা ‘লাইফলাইন’ হয়ে উঠতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy