পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের শেষ দফা মানেই টানটান উত্তেজনা। আর এই উত্তেজনার পারদ চড়তেই বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করতে ময়দানে নামছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। কসবা থেকে ব্যারাকপুর—রাজ্যের একাধিক হাই-প্রোফাইল এবং স্পর্শকাতর এলাকায় NIA টিম মোতায়েনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কেন হঠাৎ NIA-র এন্ট্রি?
সাধারণত ভোট সামলানোর দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের ওপর। কিন্তু এবারের সমীকরণ আলাদা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, শেষ দফায় ভোটারদের ভয় দেখানো বা বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে কসবা এবং ব্যারাকপুরের মতো এলাকাগুলোতে, যেখানে বিগত নির্বাচনগুলোতে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের নজির রয়েছে, সেখানে ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ দিতে পারে NIA-র বিশেষ দল।
NIA-র মূল লক্ষ্য কী?
NIA সাধারণত সন্ত্রাসবাদ বা বড় অপরাধের তদন্ত করে থাকলেও, এই নির্বাচনে তাদের ভূমিকা হবে মূলত ‘প্রিভেন্টিভ ইন্টেলিজেন্স’ বা আগাম তথ্য সংগ্রহ।
সন্দেহভাজন গতিবিধি নজরদারি: কোনো এলাকায় বিস্ফোরক বা অবৈধ অস্ত্রের মজুত রয়েছে কি না, সেদিকে কড়া নজর থাকবে।
সমন্বয়: কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম (QRT)-এর সঙ্গে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান করবে তারা।
ড্রোন ও সিসিটিভি: হাই-টেক নজরদারির মাধ্যমে স্পর্শকাতর গলি বা গোপন ডেরাগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হবে।
প্রশাসনের কড়া দাওয়াই
প্রশাসনের দাবি, সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল লক্ষ্য। একদিকে যখন ড্রোন দিয়ে আকাশপথে তল্লাশি চলবে, অন্যদিকে NIA-র উপস্থিতি দুষ্কৃতীদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই সক্রিয়তা অবাধ ভোট নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের নজর থাকছে এর নিরপেক্ষতার ওপর।





