পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম অস্থিরতা। একদিকে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একে ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধিকরণ’ বললেও, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, বাম ও কংগ্রেস একে ভোটারদের অধিকার হরণের হাতিয়ার হিসেবে দেগে দিয়েছে। তবে রাজনীতির অন্দরে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— এই SIR কি বিজেপির জন্য নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া সহজ করবে, নাকি হিতে বিপরীত হয়ে আসন সংখ্যা কমিয়ে দেবে?
বিজেপির দাবি ও অনুপ্রবেশ বিতর্ক সুকান্ত মজুমদার থেকে শুভেন্দু অধিকারী— রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রথম থেকেই SIR-এর পক্ষে সওয়াল করছেন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ ভুয়ো ভোটার ও বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী রয়েছে, যাদের জোরেই তৃণমূল ভোটে জেতে। এই ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ গেলে ২০২৬-এ নবান্ন দখল করা বিজেপির জন্য কেবল সময়ের অপেক্ষা।
তৃণমূলের পাল্টা কৌশল ও বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন? তবে বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ বিজেপির এই সমীকরণ মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, SIR-এর প্রভাব হিতে বিপরীত হতে পারে। কেন?
-
ভোটার হয়রানি: তথ্যগত অসঙ্গতির দোহাই দিয়ে লক্ষ লক্ষ সাধারণ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেককে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে জনমানসে বিজেপির প্রতি ক্ষোভ বাড়তে পারে।
-
তৃণমূলের মানবিক ভাবমূর্তি: তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বিএলএ-দের শুনানিতে উপস্থিত থাকার অধিকার আদায় করেছে। পাশাপাশি সরকারি নথি ঠিক করে দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় ঘাসফুলের ভাবমূর্তি আরও ইতিবাচক হচ্ছে।
-
মতুয়া ভোট ব্যাংক: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায় মতুয়াদের শক্ত ঘাঁটি। SIR-এর জেরে বহু মতুয়ার নাম কাটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজেপি যদিও সিএএ-র কথা বলছে, কিন্তু ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ পড়ার আতঙ্ক মতুয়াদের বিজেপির থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।
আদতে কার লাভ? বিজেপি এখনও অনড় যে সঠিক SIR হলে তারাই লাভবান হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই ভোটার অসন্তোষকে পুঁজি করে নিজেদের ভোট ব্যাংক আরও সংহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই SIR প্রক্রিয়া কার ঘরে কটি আসন পাঠাবে, তা বোঝা যাবে ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলেই।