ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ বিভাগটি এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। এআইএমআইএম (AIMIM) সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই নতুন নিয়ম নিয়ে রীতিমতো তোপ দেগেছেন। বিশেষ করে ভোটারদের পরিবারের আকার এবং বয়সের ব্যবধান নিয়ে কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
হায়দরাবাদে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালানোর সময় ওয়াইসি ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভোটার তালিকায় নাম যাচাইয়ের সময় অদ্ভুত কিছু বিষয় সামনে আসছে। নির্বাচন কমিশন এমন সব অসংগতি চিহ্নিত করছে, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।” ওয়াইসি জানান, বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম হলে কমিশন তাকে ‘অ্যানোমালি’ বা অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত করছে। এছাড়া কারও ছয়টি সন্তান থাকলে, নিয়ম দেখিয়ে তাদের নাম অন্তর্ভুক্তিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ওয়াইসি ক্ষোভের সুরে বলেন, “আইনে কোথাও লেখা নেই যে ছয় সন্তানের বাবা-মা ভোট দিতে পারবেন না। এই ধরনের নিয়ম নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।”
২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ভোটার তালিকার তুলনা টেনে ওয়াইসি অভিযোগ করেন, বারবার নথিপত্র যাচাইয়ের নামে আমজনতাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা নিজেদের সঠিক কাগজপত্র তৈরি রাখেন এবং তালিকা সংশোধনের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকেন।
উল্লেখ্য, এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ইস্যু শুধুমাত্র তেলেঙ্গানাতেই সীমাবদ্ধ নেই। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যেও এই নিয়ম নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এবং ডিএমকে-এর মতো দলগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়। শীর্ষ আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, যেসব নাম অসংগতিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে, তা স্বচ্ছতার স্বার্থে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস, মহকুমা কার্যালয় এবং শহরাঞ্চলের ওয়ার্ড অফিসগুলোতে প্রকাশ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অফিসারের অভাব মেটাতে কলকাতা হাইকোর্টকে অতিরিক্ত সিভিল জজ নিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে তেলেঙ্গানায় ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৫ জুন থেকে এই বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হবে। খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে ৩১ জুলাই। ৩১ জুলাই থেকে ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত ভোটাররা কোনো দাবি বা আপত্তি জানাতে পারবেন এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ১ অক্টোবর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই কড়াকড়ি এবং ওয়াইসির মতো নেতাদের প্রতিবাদ আগামী দিনে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।





