পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী তজমুল হোসেনকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক সংকট। নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত তালিকায় মন্ত্রীর নাম ঘিরে দেখা দিয়েছে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’। বর্তমানে তাঁর নাম ‘বিবেচনাধীন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, যা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন চরম উৎকণ্ঠা।
নিয়ম অনুযায়ী, যদি মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে তজমুল হোসেনের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যথাযথভাবে যুক্ত না হয়, তবে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি অধিকার হারাবেন। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে ১ কোটি নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, সেখানে নিজের দলের একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীর নাম তালিকায় ঝুলে থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় সূত্রের খবর, তজমুল হোসেনের নাম যদি দ্রুত সংশোধন না হয়, তবে হরিশ্চন্দ্রপুর আসনে প্রার্থী বদল করা ছাড়া তৃণমূলের কাছে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
তজমুল হোসেনের অনুগামীরা এই ঘটনাকে ‘চক্রান্ত’ হিসেবে দেখলেও, কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে যে নথিপত্রে ত্রুটি থাকায় এমনটা ঘটেছে। ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই বিশেষ প্রতিবেদনের মাধ্যমে উঠে আসছে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— নিজের গড় হরিশ্চন্দ্রপুর কি হারাবেন তজমুল? নাকি আইনি লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে নাম ফেরাতে পারবেন তিনি? পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।