দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা CAA-র মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেলেন পূর্বস্থলীর দুই পরিবারের পাঁচ সদস্য। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভার কালেখাতলা ১ পঞ্চায়েতের ফলেয়া গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এখন খুশির হাওয়া। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় যে দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছিল সরস্বতী মল্লিক ও কৃষ্ণকান্ত হালদারদের পরিবারকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া শংসাপত্র যেন সেই মেঘ কাটিয়ে নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিল।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় ১৯-২০ বছর আগে অত্যাচারের মুখে পড়ে এ দেশে চলে এসেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ সময় ফলেয়া গ্রামে বসবাস করার পর আধার বা ভোটার কার্ড থাকলেও ভোটার তালিকার চূড়ান্ত বাছাই বা এসআইআর (SIR) শুরু হতেই সমস্যা দেখা দেয়। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় অনেকেরই আবেদন খারিজ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই অনিশ্চয়তা থেকেই গত বছরের অগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে অনলাইনে সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন জানান অরবিন্দ মল্লিক ও কৃত্তিবাস হালদাররা। গত ৮ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ই-মেলের মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
শংসাপত্র হাতে পেয়ে অরবিন্দ মল্লিক জানান, “অনেকে বারণ করলেও সাহসে ভর করে আবেদন করেছিলাম, আজ আমি গর্বিত ভারতবাসী।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা বেচারাম দাসের দাবি, শাসকদলের অপপ্রচার উপেক্ষা করে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁরাই নাগরিকত্ব পাবেন। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা ভবেশ মণ্ডলের মতে, মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পেলে ভালোই হয়। আপাতত ওই দুই পরিবারের শংসাপত্র দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ওপার বাংলা থেকে আসা আরও বহু মানুষ।