ভোট শেষে রণক্ষেত্র নন্দীগ্রাম! তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ঘেরাও করে ‘মাটি চোর’ স্লোগান, পুলিশের লাঠিচার্জ

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল মেদিনীপুরের হেভিওয়েট কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। বৃহস্পতিবার রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষ, পথ অবরোধ এবং পুলিশের লাঠিচার্জে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া ও মহম্মদপুর এলাকা। তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ঘিরে ধরে ‘মাটি চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ উঠল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

সোনাচূড়ায় ২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি:
বৃহস্পতিবার রাতে সোনাচূড়া এলাকায় ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গেলে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। তাঁকে লক্ষ্য করে হুমকি এবং হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয় যে, প্রায় দুই ঘণ্টা প্রার্থীকে আটকে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। যদিও বিজেপির দাবি, এটি রাজনৈতিক বিক্ষোভ নয়, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

মহম্মদপুরে বুথ এজেন্টকে কেন্দ্র করে সংঘাত:
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের মহম্মদপুর এলাকায় বিজেপির পোলিং এজেন্টকে আটকে রাখা ও পরে তিন বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায়। আহত কর্মীদের নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে টেংগুয়া, রতনপুর ও চন্ডীপুরে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

নির্বাচন পরবর্তী এই হিংসার ঘটনায় নন্দীগ্রামের মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুক্রবার সকালেও এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy