পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান। ঝাড়গ্রামের বিনপুরের এক হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সরকারকে এক হাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার আশঙ্কার কথা শুনিয়ে তিনি দাবি করেন, “ভোট মিটে গেলেই রান্নার গ্যাসের দাম হবে ২০০০ টাকা আর পেট্রল ছুঁয়ে ফেলবে ২০০-র গণ্ডি!”
বিনপুরের জনজোয়ারে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, নির্বাচনের মুখে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট পেতে চাইছে বিজেপি। তাঁর অভিযোগ, ভোটের স্বার্থে নামমাত্র শুল্ক কমিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। অভিষেক বলেন, “এপ্রিলের ২৯ তারিখ শেষ দফার ভোট শেষ হতে দিন, দেখবেন ৩০ তারিখ থেকেই মোদি সরকার আপনাদের পকেট কাটতে শুরু করবে। যে গ্যাস এখন ১০০০ টাকায় পাচ্ছেন, তা মুহূর্তেই ২০০০ হয়ে যাবে।”
এদিন তিনি তৃণমূল সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নীতির তুলনা টেনে আনেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মা-বোনেদের হাতে যে টাকা তুলে দিচ্ছেন, বিজেপি দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে সেই টাকা ঘুরিয়ে কেড়ে নিচ্ছে। তাঁর হুঙ্কার, “বাংলার মানুষ বোঝে কারা পাশে থাকে আর কারা শুধু ভোটের পাখি। বিজেপি আসে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিতে, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকেন।”
বিরবহা হাঁসদার সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, যদি বিজেপি নিশ্চিত করতে পারে যে আগামী ৫ বছর রান্নার গ্যাসের দাম বাড়বে না, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। তাঁর এই ‘গ্যাস-পেট্রোল’ তত্ত্ব এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক। সাধারণ ভোটারদের মনে এই মহার্ঘতার আশঙ্কা ঢুকিয়ে দিয়ে তৃণমূল যে বড়সড় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে, তা বলাই বাহুল্য।