পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মানেই ‘ছাপ্পা ভোট’ আর ‘ভুয়ো ভোটার’ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা লেগেই থাকে। এবার সেই অভিযোগের স্থায়ী সমাধানে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে কেবল ভোটার কার্ড বা আই-কার্ড নয়, বরং বায়োমেট্রিক পদ্ধতি (আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি বা আইরিস স্ক্যান) চালু করা কেন সম্ভব নয়, তা জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠাল শীর্ষ আদালত।
আদালতের এই নির্দেশের প্রেক্ষাপট: সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল, প্রযুক্তি যখন এগিয়েছে, তখন ভোট জালিয়াতি রুখতে কেন বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে না? আবেদনকারীদের দাবি ছিল:
ভুয়ো ভোটার চিহ্নিতকরণ: বায়োমেট্রিক যাচাই চালু হলে একজনের ভোট অন্য কারোর দেওয়ার উপায় থাকবে না।
আধার লিঙ্কিং: আধারের ডেটাবেসের সাথে ভোটার তালিকা মিলিয়ে নিলে মৃত বা ভুয়া ব্যক্তিদের নাম সহজেই বাদ যাবে।
স্বচ্ছ নির্বাচন: ডিজিটাল যাচাইকরণ হলে বুথ জ্যাম বা রিগিং-এর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য হয়ে যাবে।
সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ ও কমিশনের দায়িত্ব: বিচারপতিরা এই মামলার গুরুত্ব বিচার করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিয়েছেন। আদালত জানতে চেয়েছে: ১. ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে হলেও গুরুত্বপূর্ণ বুথগুলোতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা যায় কি না। ২. এই প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরি করতে কী ধরণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ৩. ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা করে কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
রাজনৈতিক মহলে প্রভাব: সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপে বিরোধীরা খুশি হলেও, শাসক শিবিরের একাংশ মনে করছে এটি ভোট প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করতে পারে। তবে সাধারণ ভোটারদের মতে, যদি আঙুলের ছাপ দিয়ে রেশন তোলা বা টাকা তোলা সম্ভব হয়, তবে নিজের সঠিক প্রতিনিধ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার হওয়া উচিত।
এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই প্রযুক্তির ব্যবহারে সবুজ সংকেত দেয় কি না। যদি এটি কার্যকর হয়, তবে ২০২৬-এর নির্বাচন হবে বাংলার ইতিহাসে সবথেকে প্রযুক্তি-নির্ভর এবং স্বচ্ছ নির্বাচন।





