নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি দেশের সেবায় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। মঙ্গলবার অধ্যাপকদের ভোটের ডিউটি সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনই ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সিঙ্গল বেঞ্চের অন্তর্বর্তী নির্দেশ স্থগিত করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল— অধ্যাপকদের ভোটের কাজ করতেই হবে।
কেন ক্ষুব্ধ আদালত?
কলেজ অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের পদমর্যাদা অনুযায়ী যেন কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষিতে বিচারপতি শম্পা সরকারের বেঞ্চ তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে বলেন:
দেশের স্বার্থ: “দেশের স্বার্থে কি আপনারা কাজ করবেন না? যখন প্রয়োজন হবে, দেশের সেবা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য।”
ভোট স্তব্ধ করার চেষ্টা: আদালত মন্তব্য করে যে, কিছু মানুষ ভোট প্রক্রিয়ায় গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছেন, যার অনুমতি আদালত দেবে না।
পদমর্যাদা বনাম দায়িত্ব
মামলাকারী অধ্যাপকদের যুক্তি ছিল, প্রিসাইডিং অফিসারের ওপরে থাকা সেক্টর অফিসাররা পদমর্যাদায় তাঁদের চেয়ে নিচে। এর উত্তরে আদালত জানায়: ১. কাজের ভিন্নতা: সেক্টর অফিসার এবং প্রিসাইডিং অফিসারের কাজ সম্পূর্ণ আলাদা। সেক্টর অফিসার মূলত সমন্বয়কারীর কাজ করেন, প্রিসাইডিং অফিসারের ওপর খবরদারি করা তাঁর কাজ নয়। ২. যোগ্যতামান: অধ্যাপকরা অবজার্ভার বা মাইক্রো অবজার্ভার হওয়ার দাবি জানালেও আদালত প্রশ্ন তোলে, সেই প্রশাসনিক পদের যোগ্যতামান কি তাঁদের আছে? এছাড়া ওই কাজগুলোতে অনেক বেশি সময় লাগে, যা পঠন-পাঠনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
কমিশনের কড়া অবস্থান
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, গত ২০ মার্চই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অধ্যাপকরা কাজে যোগ না দিয়ে শেষ মুহূর্তে ৮ এপ্রিল মামলা করেছেন। কমিশনের দাবি, ভোটের কাজে বাধা সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।
আদালতের এই রায়ের পর এখন এটা পরিষ্কার যে, আসন্ন নির্বাচনে কলেজ অধ্যাপকদের সক্রিয়ভাবে প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসারের দায়িত্ব সামলাতে হবে। কোনো অজুহাতেই জাতীয় কর্তব্যে অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।





