ভ্যালেন্টাইনস ডের রাতে যখন গোটা দেশ প্রেমের উৎসবে মগ্ন, ঠিক তখনই দিল্লির উপকণ্ঠ নয়ডায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। একটি অভিজাত আবাসনের বহুতল থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হলো এক তরুণ ও তরুণীর। প্রথম নজরে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও, মৃত যুগলের স্মার্টফোন উদ্ধারের পর এবং তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট (WhatsApp Chat) খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারী অফিসারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত তরুণ ও তরুণী দুজনেই বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। তাঁদের শেষ কয়েক ঘণ্টার হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখেছে যে, সম্পর্কের টানাপোড়েন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যেখানে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতির ইঙ্গিত মিলছে। এমনকি মৃত্যুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে পাঠানো একটি মেসেজ পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে যে, এটি আদৌ স্বেচ্ছায় মৃত্যু নাকি কেউ তাঁদের আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করেছিল।
নয়ডা সেক্টর-৭৫ এর ওই আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধেই সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। যুগলের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রেমের দিনে এমন মর্মান্তিক পরিণতির নেপথ্যে পরকীয়া, ব্যক্তিগত বিবাদ নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে, তা জানতেই এখন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের প্রতিটি শব্দ আতশকাঁচের নিচে রেখেছেন তদন্তকারীরা।