ভারতবর্ষ বৈচিত্র্যের দেশ। হিমালয়ের চূড়া থেকে কন্যাকুমারীর সমুদ্র—প্রকৃতি এখানে দুহাত ভরে ঢেলে দিয়েছে রূপ। কিন্তু সম্প্রতি পর্যটকদের নজর কেড়েছে পশ্চিম ভারতের এক অদ্ভুত সুন্দর রাস্তা, যাকে স্থানীয়রা তো বটেই, পর্যটকরাও বলছেন ‘রোড টু হেভেন’ বা স্বর্গের পথ। গুজরাটের কচ্ছের রণের বুক চিরে চলে যাওয়া এই দীর্ঘ সর্পিল পথটি দেখলে মনে হবে, এটি যেন সরাসরি শেষ হয়েছে নীল দিগন্তের ওপারে, কোনও এক মায়াবী জগতে।
খাতউদিয়া থেকে ধোলাভিরা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৩০ কিলোমিটার লম্বা এই রাস্তাটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ধোলাভিরাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাস্তার দুপাশে তাকালে চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল সাদা লবণের মরুভূমি এবং আরবসাগরের নীল জলরাশি। বর্ষার পর যখন চারপাশ জলে ভরে থাকে, তখন এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো মানে মনে হবে আপনি জলের মাঝখান দিয়ে হেঁটে চলেছেন। আকাশ আর জল যেখানে একাকার হয়ে যায়, সেই দৃশ্যটিই পর্যটকদের কাছে একে ‘স্বর্গ’ করে তুলেছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক এবং বাইকাররা ভিড় করছেন এই অবিশ্বাস্য সৌন্দর্য চাক্ষুষ করতে। বিশেষ করে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় এই রাস্তার রূপ বদলে যায় কয়েক গুণ। সাদা লবণের চাদরের ওপর যখন সূর্যের লাল আভা পড়ে, তখন এক অলৌকিক পরিবেশ তৈরি হয়। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের পর্যটন মানচিত্রে এই রাস্তাটি এখন অন্যতম বড় আকর্ষণ। আপনি যদি অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হন এবং প্রকৃতির নিস্তব্ধতাকে ভালোবাসেন, তবে এই ‘স্বর্গের পথ’ আপনার বাকেট লিস্টে থাকা মাস্ট।