ভারতের মানচিত্রের একেবারে শেষ প্রান্তে গেলে দেখা মিলবে এক অদ্ভুত সুন্দর অথচ বিষণ্ণ জায়গার। নাম তার ধনুশকোডি। একদিকে বঙ্গোপসাগর আর অন্যদিকে ভারত মহাসাগর—এই দুই সাগরের মিলনস্থলেই রয়েছে ভারতের সেই বিখ্যাত শেষ রাস্তা। যা সোজা গিয়ে মিশেছে নীল জলরাশির অতল গহ্বরে। এই রাস্তার ওপারেই মাত্র ১৮ মাইল দূরে দাঁড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা।
এক রাতে মুছে গিয়েছিল জনপদ: ১৯৬৪ সালের আগে ধনুশকোডি ছিল দক্ষিণ ভারতের এক সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। সেখানে রেল স্টেশন ছিল, ছিল পোস্ট অফিস এবং স্কুল। কিন্তু ১৯৬৪ সালের ২২শে ডিসেম্বর রাতে এক বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আস্ত শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। সেই রাতেই সমুদ্রের গ্রাসে চলে যায় কয়েকশো যাত্রীসহ একটি ট্রেন। তারপর থেকে সরকার এই শহরকে ‘বসবাসের অযোগ্য’ বা ‘Ghost Town’ ঘোষণা করে।
যেখানে শেষ হয়েও শেষ হয় না পথ: বর্তমানে সরকার সেখানে একটি চমৎকার পিচঢালা রাস্তা তৈরি করেছে। রামেশ্বরম থেকে শুরু হওয়া এই পথটি যখন ধনুশকোডির শেষ বিন্দুতে পৌঁছায়, তখন দুপাশে কেবল দিগন্ত বিস্তৃত নীল জলরাশি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না। রাস্তার একেবারে শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে মনে হয়, এখান থেকেই বুঝি শুরু হয়েছে অনন্ত যাত্রা। এই জায়গাটিকে হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী ‘রাম সেতু’র শুরুর বিন্দু হিসেবেও মানা হয়।
কেন যাবেন এখানে? যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন এবং ইতিহাসের সাক্ষী হতে চান, তাঁদের কাছে ধনুশকোডি এক স্বর্গরাজ্য। বালির ওপর পড়ে থাকা ভাঙাচোরা গির্জা বা রেল স্টেশনের ধ্বংসাবশেষ আজও সেই কালরাতের সাক্ষ্য দেয়। নীল জলরাশির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হাওয়া আর চারদিকের নিস্তব্ধতা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে—প্রকৃতি চাইলে নিমেষেই সব কেড়ে নিতে পারে, আবার ধ্বংসস্তূপের ওপর এঁকে দিতে পারে অপূর্ব সৌন্দর্যের আলপনা।