সাম্প্রতিক সময়ে ভারত তার অন্যতম ভয়াবহ বিমান চলাচল বিপর্যয়ের সাক্ষী হচ্ছে, যার কেন্দ্রে রয়েছে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo)। লাগাতার ফ্লাইট বাতিল ও চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্য বিমান সংস্থাগুলি যেন ‘অর্থ উপার্জনের সুযোগ’-এ পরিণত করেছে। ফ্লাইট বাতিলের ফলে যাত্রীরা বিকল্পের খোঁজে মরিয়া হওয়ায়, অন্যান্য বিমান সংস্থাগুলির টিকিটের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।
ক্ষুব্ধ ভ্রমণকারীরা এই পরিস্থিতিকে “আপদা মে অবসর” (কারো বিপদে সুযোগ নেওয়া) বলে বর্ণনা করেছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লোটার জন্য এই সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ।
💸 দিল্লি-মুম্বাই: ভাড়ার দামে অবিশ্বাস্য লাফ
দেশের অন্যতম ব্যস্ত করিডোর দিল্লি-মুম্বাই রুটে ভাড়া বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে।
| রুট | স্বাভাবিক ভাড়া (প্রায়) | বর্তমান সর্বোচ্চ ভাড়া | বৃদ্ধির হার |
| দিল্লি–মুম্বাই | ₹৫,৩৫০ | ₹১.৭০ লাখ | প্রায় ৩২ গুণ |
| দিল্লি–চেন্নাই | ₹৫,৯০০ | ₹১.৬০ লাখ | প্রায় ২৭ গুণ |
| দিল্লি–কলকাতা | ₹৪,৬২০ | ₹৯৮,০০০ | প্রায় ২১ গুণ |
| দিল্লি–হায়দ্রাবাদ | ₹৫,৬৯১ | ₹৯০,০০০ | প্রায় ১৫ গুণ |
মাত্র তিন দিন ধরে ইন্ডিগোর অপারেশনাল সমস্যার কারণে দিল্লি-মুম্বাই রুটে শেষ মুহূর্তের টিকিটের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আগে এই রুটে খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত, শেষ মুহূর্তের এই রুটের টিকিটের দাম প্রায় ₹২০,০০০-এর আশেপাশে থাকে, যা বর্তমানে তিন গুণ ছাড়িয়ে গেছে।
৬ ডিসেম্বর, ২০২৫-এর জন্য অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে দিল্লি-মুম্বাই রুটের নন-স্টপ ফ্লাইটের ভাড়া ছিল ₹৩৮,৩৭৬ থেকে ₹৪৮,৯৭২-এর মধ্যে। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে এই দাম ₹৮৩,৮৯০ পর্যন্তও পৌঁছেছে।
✈️ অন্যান্য রুটেও ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
ভাড়ার এই উল্লম্ফন শুধু একটি করিডোরে সীমাবদ্ধ নয়:
-
স্পাইসজেটের নয়াদিল্লি–চেন্নাই রুটের ভাড়া দাঁড়িয়েছে ₹৬৮,৯৩২।
-
আকাশা এয়ারের নয়াদিল্লি–বেঙ্গালুরু রুটের ভাড়া ₹৩৯,১০১।
-
ইন্ডিগোর আহমেদাবাদ–মুম্বাই রুটে ভাড়া ₹২০,০০০ ছাড়িয়েছে।
-
কলকাতা–মুম্বাই রুটের ভাড়া ₹৩১,৪৪৪।
-
এছাড়াও পুনে–কলকাতা (₹২৪,১৭৬) এবং পুনে–হায়দ্রাবাদ (₹১৭,৫০১)-এর মতো রুটগুলিতেও ভাড়ার তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে।
🚨 প্রধান বিমানবন্দরগুলিতে চরম বিশৃঙ্খলা
ইন্ডিগোর সমস্যা শুক্রবার আরও বেড়েছে। আগের দিনের ৫০০-এরও বেশি বাতিলের পর, শুক্রবার প্রধান বিমানবন্দরগুলিতে ৭৫০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
-
কেবল দিল্লি বিমানবন্দরেই ইন্ডিগো দিনের জন্য নির্ধারিত ২৩৫টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।
-
চেন্নাই বিমানবন্দর বিকেল ৬টা পর্যন্ত পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
-
মুম্বাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দ্রাবাদ বিমানবন্দরগুলিতেও ব্যাপক বিলম্ব এবং গণ-বাতিলকরণ অব্যাহত রয়েছে।
দেশজুড়ে যাত্রীরা অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ লাইন, সীমিত বিকল্প এবং বেশিরভাগের জন্য অসাধ্য হয়ে ওঠা উচ্চমূল্যের সঙ্গে লড়ছেন। চাহিদা বৃদ্ধির চাপে যখন বিমান সংস্থাগুলি হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই সংকট সহসা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।