ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার জনবিন্যাস এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মার্কিন সংস্থা ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF)-এর সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের রিপোর্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। এই রিপোর্টে ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্য পরিবর্তনের যে দাবি করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে খারিজ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP) এস পি বৈদ। দীর্ঘ সময় সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ করা এই অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিক সাফ জানিয়েছেন, এই রিপোর্টে তথ্যের চেয়ে ‘এজেন্ডা’ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
এস পি বৈদ একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইউএসসিআইআরএফ-এর সদস্যরা ভারতের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত নন। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর হিন্দু জনসংখ্যার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, দেশভাগের সময় বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) হিন্দু জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭-৮ শতাংশে। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে হিন্দুদের অস্তিত্ব এখন কার্যত বিলীন। অথচ ভারতে স্বাধীনতার সময় মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৯.৫ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
জঙ্গি দমনকারী এই প্রাক্তন ডিজিপি-র মতে, ভারতের মতো একটি বহুত্ববাদী দেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমার তত্ত্ব বা ধর্মীয় নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হাস্যকর। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন সংস্থাটি কেন প্রতিবেশী দেশগুলোতে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া পদ্ধতিগত অত্যাচারের কথা উল্লেখ করেনি? এস পি বৈদ সহ প্রায় ২৭৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ইতিমধ্যেই মার্কিন সরকারের কাছে এই রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই রিপোর্টটি ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা আরএসএস (RSS) এবং ‘র’ (R&AW)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত করার একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। ডেইলিহান্ট-এর পাঠকদের জন্য বলে রাখা ভালো, ভারত সরকারও ইতিমধ্যেই এই রিপোর্টকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।