ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীল মোহন ‘টাইম’-এর বর্ষসেরা CEO, ইউটিউব বসের সাফল্যের নেপথ্যে চমকপ্রদ কাহিনি

ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) নীল মোহন-কে মর্যাদাপূর্ণ টাইম ম্যাগাজিন ২০২৫ সালের ‘CEO অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্বজুড়ে বিনোদন, তথ্য এবং সংস্কৃতি-কে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে ইউটিউবের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং প্ল্যাটফর্মটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁকে এই সম্মান জানানো হয়েছে।

টাইম কেন নীল মোহনকে বেছে নিল?

টাইম ম্যাগাজিন তাদের প্রোফাইলে নীল মোহনকে “বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ডিস্ট্রাকশন মেশিনের পাইলট” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, “অনেক দিক দিয়ে ইউটিউব এমন এক সাংস্কৃতিক খাদ্যের জন্ম দিচ্ছে, যা গোটা বিশ্ব গ্রহণ করছে। আর মোহন হলেন সেই কৃষক (Farmer); তিনি যা চাষ করবেন, আমরা তাই খাব।”

ম্যাগাজিনটি উল্লেখ করেছে, মোহন এমন এক নেতা, যাঁর শান্ত স্বভাব ও সুচিন্তিত নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মটির বিশাল আকারের কাজকে মসৃণভাবে পরিচালনা করছে। ২০২৩ সালে সুসান ওজসিকি-র স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে নীল মোহন প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল মিডিয়া জগতে ইউটিউবকে আরও গভীরে নিয়ে গেছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্ল্যাটফর্মটি ক্রিয়েটর অর্থনীতিকে (Creator Economy) এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

লখনউ থেকে সিলিকন ভ্যালি: নীল মোহনের জীবনযাত্রা

আমেরিকায় জন্ম হলেও, মাত্র ১২ বছর বয়সে নীল মোহন তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের লখনউতে চলে আসেন। সেখানেই তাঁকে প্রাথমিক হিন্দি পড়া ও বলার পাশাপাশি সংস্কৃতও শিখতে হয়েছিল। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, সেই পরিবর্তন তাঁর জীবনে এক ‘বড় ধাক্কা’ ছিল। তিনি সংস্কৃত ভাষাকে “কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখার মতো” কঠিন বলে বর্ণনা করেছেন। এই কঠিন অভিজ্ঞতা হয়তো তাঁর মধ্যে বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং পরে এমবিএ সম্পন্ন করেন নীল মোহন। গুগল (Google)-এ তাঁর যাত্রা শুরু হয় ডাবলক্লিক (DoubleClick) অধিগ্রহণের মাধ্যমে, যেখানে তিনি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

২০১৫ সালে তিনি ইউটিউবের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার হন এবং ২০২৩ সালে তিনি সংস্থার সিইও পদে বসেন। তাঁর অন্যতম প্রধান মূল্যবোধ হল, “প্রত্যেককে একটি কণ্ঠস্বর দেওয়া”— যা ইউটিউবের কনটেন্ট নীতি ও মডারেশনের মূল ভিত্তি।

নীল মোহনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ফের একবার প্রমাণ করল, প্রযুক্তি ও কর্পোরেট বিশ্বের শীর্ষস্থানে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের প্রভাব কতখানি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy