বিশ্বজুড়ে এখন দাপট দেখাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)। আর এই প্রযুক্তির লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান শক্তি ভিয়েতনামের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ আগামীর বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যৌথ দক্ষতায় নতুন দিগন্ত কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে মূলত তথ্যপ্রযুক্তি এবং এআই-এর মতো আধুনিক বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারত ও ভিয়েতনামের এই জোট কেবল প্রযুক্তি বিনিময় নয়, বরং একে অপরের দক্ষতা ও সম্পদকে ব্যবহার করে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার লক্ষ্য নিয়ে এগোবে।
কোন কোন বিষয়ে উন্নতির সম্ভাবনা? বিজ্ঞান মন্ত্রক সূত্রে খবর, এই চুক্তির আওতায় বেশ কয়েকটি মূল ক্ষেত্রের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:
দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: ভারতের আইটি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামের তরুণ প্রজন্মকে এআই প্রশিক্ষণে সাহায্য করা হবে।
গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D): দুই দেশের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে এমন এআই টুল তৈরি করবেন যা কৃষি, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
ডিজিটাল ইকোনমি: এআই-কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দুই দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যের উন্নতি ঘটানো যায়, তার রূপরেখা তৈরি করা হবে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: সরকারি কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে শাসন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন এই চুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে প্রযুক্তির বাজারে চিনের একচেটিয়া আধিপত্যকে টেক্কা দিতে ভারত প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে। ভিয়েতনামের মতো দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে এই মউ ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নই নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে উৎসাহিত দেশের তথ্যপ্রযুক্তি মহল। তাঁদের মতে, এআই-এর এই জয়যাত্রা কেবল শুরু, যা আগামী দিনে দেশের আর্থিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তন আনবে।





