ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার গতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় (PIL) রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
কেন্দ্র ও রাজ্যের বক্তব্য
-
কেন্দ্রের দাবি: কেন্দ্রের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী আদালতে জানান, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত থাকায় এই কাজে কেন্দ্রের বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। ১৮১.৬৩ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই টাকা দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সেই অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে জমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে হস্তান্তর করছে না।
-
রাজ্যের বক্তব্য: রাজ্যের আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সীমান্তে মোট ৯টি জেলা রয়েছে। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জমিদাতারা এখনও টাকা পাননি। তিনি দাবি করেন, ল্যান্ড ডিপার্টমেন্ট বা জমি অধিগ্রহণ দফতরকে এই মামলায় যুক্ত না করলে সম্পূর্ণ ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।
মামলাকারীর মূল অভিযোগ
মামলাকারী ডঃ সুব্রত সাহার আইনজীবী আদালতে জানান, পশ্চিমবঙ্গের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মোট ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে ৩৭৮ কিলোমিটারে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত কাজের জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ২২৯ কিলোমিটার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং ১৮১ কিলোমিটারের জন্য কেন্দ্র টাকা দিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের তৎপরতার অভাবে বকেয়া কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। এই সীমান্ত এলাকা (মালদা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ) বেআইনি অনুপ্রবেশ, জাল নোট পাচার, ও চোরাচালানের কেন্দ্র হওয়ায় এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়।
হাইকোর্টের নির্দেশ
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে:
-
রাজ্যের জমি অধিগ্রহণ দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এই মামলায় যুক্ত করতে হবে।
-
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮১ কিলোমিটার জমি অবিলম্বে হস্তান্তর করা উচিত।
-
এ বিষয়ে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে হলফনামা দিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানাতে হবে।
রাজ্যের হলফনামার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রের যদি কোনো পাল্টা বক্তব্য থাকে, তারাও তা আদালতে জানাতে পারবে। আগামী ২২ ডিসেম্বর এই মামলার ফের শুনানি হবে।