আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই বিশ্ব অর্থনীতিতে কম্পন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানি শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মনোভাব এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত-সহ বিশ্বের ১৬টি দেশের। ওয়াশিংটন সূত্রে খবর, মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং স্থানীয় শিল্পকে চাঙ্গা করতে ভারতসহ ১৬টি দেশের ওপর বড়সড় আমদানি শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবার আরও আগ্রাসী রূপ নিতে পারে। ভারতের ওপর দিয়ে যাওয়ার এই ঝোড়ো হাওয়ায় মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বস্ত্রশিল্প। ট্রাম্পের দাবি, ভারতসহ এই দেশগুলো আমেরিকার বাজারে পণ্য পাঠিয়ে কোটি কোটি ডলার আয় করলেও, মার্কিন পণ্যের জন্য তাদের বাজার উন্মুক্ত নয়। এই “অসামঞ্জস্য” দূর করতেই নতুন করে শুল্ক বসানোর তোড়জোড় চলছে।
ভারত বরাবরই আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। তবে ট্রাম্পের নজর মূলত ভারতের উচ্চ শুল্ক হারের দিকে, যা তিনি প্রায়ই হার্লে-ডেভিডসন বাইকের প্রসঙ্গ টেনে সমালোচনা করেছেন। যদি এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হয়, তবে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজার অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। এর ফলে ভারতে উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমতে পারে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এই বাণিজ্য সংঘাত কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে আশাবাদী সাউথ ব্লক। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের কাছে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চেয়ে ‘ব্যবসা’ সবসময় অগ্রাধিকার পায়।