ভারত-ইউএই মাস্টারপ্ল্যান: গুজরাটে মহাকাশ গবেষণা থেকে নিউক্লিয়ার এনার্জি, বদলে যাবে ভারতের ভাগ্য!

নয়া দিল্লি, ২০ জানুয়ারি: বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের আধিপত্য বৃদ্ধিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সোমবার এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে দুই রাষ্ট্রপ্রধান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে ২০৩২ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করে ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।

২০২২ সালে সম্পাদিত ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (CEPA)-র সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই এই নতুন রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই দুই দেশের বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি স্পর্শ করেছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক।

গুজরাটের ঢোলেরায় মিনি আরব? বৈঠকে গুজরাটের ঢোলেরা বিশেষ বিনিয়োগ অঞ্চলে আমিরশাহীর বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্মার্ট টাউনশিপ, গ্রিনফিল্ড বন্দর এবং রেলওয়ে কানেক্টিভিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী আমিরশাহীর সভরেন ওয়েলথ ফান্ডকে ২০২৬-এর দ্বিতীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

জ্বালানি ও পরমাণু শক্তিতে নতুন দিগন্ত: ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC) গ্যাসের মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে প্রতি বছর ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আসবে ভারত। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, দুই দেশ এখন বৃহৎ পরমাণু চুল্লি এবং স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (SMR) তৈরির ক্ষেত্রেও একে অপরকে সহযোগিতা করবে।

মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): মহাকাশ বিজ্ঞানে বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি সমন্বিত স্পেস ইকোসিস্টেম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু মহাকাশ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার স্থাপনেও ভারত-ইউএই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সস্তা ও সহজ করতে দুই দেশের পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন দুই নেতা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy