শনিবার রাতে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। ক্যানিং পূর্বের প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠল। এই হামলার নেপথ্যে সরাসরি ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা।
সূত্রের খবর, শনিবার রাতে দলীয় কাজ সেরে ফেরার পথে ভাঙড় এলাকায় শওকত মোল্লার কনভয় লক্ষ্য করে ইট ও পাথর বৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। বিধায়কের গাড়ির কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় শওকত মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে সরাসরি নওশাদ সিদ্দিকীকে আক্রমণ করেছেন।
শওকত মোল্লা বলেন, “নওশাদ সিদ্দিকী এবং তাঁর দল ভাঙড়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। আমার গাড়ি লক্ষ্য করে যে হামলা হয়েছে, তা প্রাণঘাতী হতে পারত। ওরা আমাকে সরিয়ে দিতে চায়, কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে আছে।” অন্যদিকে, আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদের ফল অথবা জনরোষের বহিঃপ্রকাশ।
ভাঙড়ের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই সংঘাতপূর্ণ। নির্বাচন হোক বা সাধারণ জনসভা, শওকত বনাম নওশাদ লড়াই মাঝেমধ্যেই সংবাদের শিরোনামে থাকে। এদিনের ঘটনার পর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছে। ঘটনার জেরে তৃণমূল কর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ফলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে।