নদিয়া এবং হুগলি জেলার মধ্যবর্তী ভাগীরথীর বুকে অবস্থিত সুবিশাল এক নির্জন চরে প্রায় ২৫ বছর ধরে একা বসবাসকারী অসুস্থ এক বৃদ্ধকে উদ্ধার করলেন শান্তিপুরের দুই মানবিক যুবক-যুবতী। এই মানবিক উদ্যোগে প্রশংসিত হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা বসাক এবং সৌরভ প্রামানিক।
ভাগীরথীর একপাশে হুগলির শক্তিপুর ঘাট এবং অন্যপাশে নদিয়ার শান্তিপুর বড়বাজার ঘাট। মাঝে প্রায় হাজার বিঘের কাছাকাছি বিস্তৃত চরেই দীর্ঘকাল ধরে নির্জনে সাধনভজন করতেন জগবন্ধু বাবু নামের ওই বৃদ্ধ। শীতকালে স্থানটি পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রানাঘাট থেকে আসা একদল পর্যটকের চোখ পড়ে তাঁর ওপর।
২৫ বছরের সঙ্গী নির্জনতা ও অসুস্থতা:
পিকনিকে আসা ব্যক্তিরা দেখেন, নির্জন দ্বীপে একমাত্র বাসিন্দা জগবন্ধু বাবু অসুস্থ অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। বাড়ি ফিরে তাঁরা শান্তিপুরের প্রিয়াঙ্কা বসাক এবং সৌরভ প্রামানিককে বিষয়টি জানান। এরপর এই দুই সমাজকর্মী সাহসের সঙ্গে ভাগীরথী পার হয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন এবং শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রিয়াঙ্কা জানান, চরে পৌঁছতে তাঁদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। বৃদ্ধের বর্ণনা অনুযায়ী, বাদকুল্লায় তাঁর বাড়ি। কিন্তু সেখানে তাঁর যোগাযোগ প্রায় নেই। গুরুতরভাবে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ার পরেও প্রায় তিন মাস ধরে তিনি কোষ্ঠকাঠিন্য, পা ফোলা সহ নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শীতকালে কেউ পিকনিকে শুকনো খাবার দিলে সেটাই তাঁর একমাত্র খাদ্য ছিল।
সুস্থ হয়েও ফিরতে নারাজ:
তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে জগবন্ধু বাবু চিকিৎসকদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, সুস্থ হয়ে গেলেও তিনি যেন সেখানেই ফিরে যেতে পারেন। কারণ, সর্বস্ব ত্যাগ করে নির্জন দ্বীপে একমাত্র মন্দির স্থাপন করে সাধনভজন করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রদীপ দাস তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যুবক-যুবতীকে চিকিৎসার বাইরেও পথ্যের ব্যাপারে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে বলেন। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা ও সৌরভ জানিয়েছেন, বৃদ্ধ সুস্থ হয়ে গেলে তাঁরা পুরসভার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করবেন তাঁকে কিছুদিন ‘দিশারী’-তে রাখার জন্য। শান্তিপুরের সচেতন নাগরিকরা এই মহৎ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।