লোকসভা নির্বাচনের আবহে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে পারদ চড়ালেন বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর একটি বিতর্কিত ভিডিও ফুটেজকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। সুপর্ণা পারুই-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা এখন ভরতপুরের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
কী আছে সেই ৫১ মিনিটের ফুটেজে?
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, একটি বিশেষ সভায় হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের প্রায় ৫১ মিনিটের একটি ভিডিও ক্লিপিং ভাইরাল হয়েছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম)। অভিযোগ, সেখানে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ তো বটেই, এমনকি সাম্প্রদায়িক উস্কানির সামিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো।
হুমায়ুনের ভোলবদল!
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার প্রথম দিকে হুমায়ুন কবীর নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেও, সময়ের সাথে সাথে তাঁর সুরে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া বার্তার পরেই সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন এই দাপুটে নেতা।
আগে যা বলেছিলেন: বিরোধীদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁর বক্তব্যে।
এখনকার অবস্থান: তিনি দাবি করছেন, ভিডিওটি এডিট করা হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
চাপ বাড়ছে মুর্শিদাবাদে
তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেতার মন্তব্য ঘিরে অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবিরও। বিশেষ করে ভোটের মুখে যখন মেরুকরণের রাজনীতি তুঙ্গে, তখন হুমায়ুনের এই বিতর্কিত ফুটেজ বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দিয়েছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই এই ফুটেজ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুন কবীর বরাবরই তাঁর ‘ঠোঁটকাটা’ স্বভাবের জন্য পরিচিত। তবে এবারের ৫১ মিনিটের এই ফুটেজটি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। এখন দেখার, এই ভিডিও বিতর্ক ধামাচাপা দিতে শাসক দল কী পদক্ষেপ নেয়, নাকি হুমায়ুনকে নিয়ে নতুন কোনো বিপাকে পড়তে হয় তাদের।





