২৮৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের সাক্ষী থাকছে ফলতা। গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠায় নির্বাচন কমিশন সব বুথেই ফের ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল। আজ, বৃহস্পতিবার সেই পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় জনস্রোত নজিরবিহীন। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট প্রক্রিয়া চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। তবে গতবারের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে ভুলে এদিন ভোটারদের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে, ফলতা যেন গণতন্ত্রের এক উৎসবে মেতেছে।
বিশেষ করে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২১৭ ও ২১৮ নম্বর বুথের চিত্রটি চোখে পড়ার মতো। ফলতা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সাজানো হয়েছে একদম বিয়ের মণ্ডপের আদলে। বেলুন, ফুল এবং বর্ণিল সাজে বুথ চত্বরকে ‘মডেল বুথ’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই অভিনব উদ্যোগে এলাকার মানুষ ভীষণ খুশি। তরুণ-তরুণী থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। এক ভোটার উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানালেন, “পুরনো ভয় অনেকটাই কেটে গিয়েছে। উৎসবের মেজাজে ভোট দিতে পারছি, এটাই বড় পাওনা।”
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কোনো ঝুঁকিই নেয়নি। গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি বুথের ওপর নজর রাখতে চলছে ওয়েব কাস্টিং। কমিশনের এই কড়া নজরদারির ফলেই ভোটারদের মধ্যে ভয়ের বদলে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
ভোটের হার জানান দিচ্ছে মানুষের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ২০.৪৭ শতাংশ, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এরপর বেলা ১১টা পর্যন্ত এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২.৮৩ শতাংশে। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ৩৮.৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের তুলনায় এদিন প্রায় চার শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে।
ভোটারদের সুবিধার্থে প্রতিটি মডেল বুথে পানীয় জল, ছায়ার ব্যবস্থা এবং বয়স্কদের জন্য হুইলচেয়ারের মতো প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, কারচুপির কালিমা মুছে ফলতায় আজ গণতন্ত্রের এক স্বচ্ছ ছবি ধরা পড়ছে। ভোটগ্রহণের শেষ কয়েক ঘণ্টায় এই ভিড় আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।





