২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র সংঘাত চরমে। মঙ্গলবার নবান্নে জেলাশাসকদের (DM) সঙ্গে এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, কমিশনের সাসপেন্ড করা আধিকারিকদের পাশে দাঁড়িয়ে এবং আইনি সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে জেলাশাসকদের মনোবল চাঙ্গা করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় আধিকারিকদের অভয় দিয়ে বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না, রাজ্য সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।”
বৈঠকের প্রধান বিষয়গুলি: ১. আধিকারিকদের অভয় দান: নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি রাজ্যের ৭ জন এআইআরও (AERO)-কে সাসপেন্ড করেছে। সেই ঘটনায় প্রশাসনিক আধিকারিকদের মধ্যে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাউকে চাকরিচ্যুত করা এত সহজ নয়। আপনারা আইন মেনে কাজ করুন, কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতির কাছে নতি স্বীকার করবেন না।” ২. ভোটার তালিকা ও এআই বিতর্ক: মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ৫৮ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি জেলাশাসকদের নির্দেশ দেন, প্রতিটি ব্লকে ব্লকে গিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে যাতে কোনো বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ না হয়। ৩. ৪৪০ ভোল্ট হুঁশিয়ারি: এদিনও তিনি তাঁর সেই সিগনেচার মেজাজে বিরোধীদের সতর্ক করে বলেন, “ওরা ৪২০ হলে আমি ৪৪০ ভোল্ট। সিঙ্গুরের মাটি থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় সেই একই লড়াই লড়ব।”
তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান: মুখ্যমন্ত্রী এদিন নবান্ন থেকে বার্তা দেন যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি বা কমিশনের ভয় দেখিয়ে বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করা যাবে না। তিনি জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, “পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে যে কারিগরি সমস্যা হচ্ছে, তা লিখিতভাবে কমিশনকে জানান। সরকার আপনাদের পূর্ণ সহায়তা দেবে।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে আমলাতন্ত্র যাতে রাজনৈতিক চাপে দিশেহারা না হয়ে পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই মমতার এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’। এই বৈঠক ২০২৬-এর লড়াইয়ে শাসক দলের অনমনীয় মনোভাবকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।