২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ময়দানে নেমে পড়ল ভারত নির্বাচন কমিশন। নবান্ন থেকে শুরু করে মহাকরণ, সর্বত্রই এখন বদলির আতঙ্ক। রাজ্যের ডি GP, কলকাতার সিপি এবং জেলাশাসকদের পর এবার সরাসরি থানার স্তরে হাত দিল কমিশন। এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (OC) এবং পরিদর্শক (IC) পদমর্যাদার অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল দিল্লি। যার মধ্যে খোদ কলকাতা পুলিশেরই ৩১ জন আধিকারিক রয়েছেন।
কমিশনের এই মেগা রদবদলের তালিকায় রয়েছে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের মতো হাই-প্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্রও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থানার আইসি-কে সরিয়ে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসটিএফ-এর সৌমিত্র বসুকে। এছাড়াও আলিপুর, একবালপুর, টালিগঞ্জ এবং বেহালার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানার রাশও এখন নতুন অফিসারদের হাতে। জেলাগুলোর মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং মালদা-মুর্শিদাবাদে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। হলদিয়া ও কোলাঘাটের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতেও নতুন মুখ নিয়ে আসা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের আগে স্থানীয় স্তরে পুলিশি প্রভাব কমাতে এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, স্থানীয় মেজ কাজ করা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। সেই সমস্ত বিতর্ক এড়াতেই এই পদক্ষেপ। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যে সমস্ত আধিকারিকদের সরানো হলো, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কোনও নির্বাচনী ডিউটিতে থাকতে পারবেন না। এই বিপুল রদবদলের ফলে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনে কার্যত হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে।