আসন্ন নির্বাচনের দামামা বাজার আগে নিজের খাস তালুক ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বা ক্ষুদ্র ভারত হিসেবে অভিহিত করে তিনি সাফ জানালেন, এই অঞ্চলটি আসলে সম্প্রীতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। বুধবার ভবানীপুরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে পাঞ্জাবি, গুজরাটি, বিহারি থেকে শুরু করে বাঙালি— সব ভাষার ও সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে থাকে। এটাই ভারতের আসল ছবি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সম্প্রীতির বার্তা অত্যন্ত কৌশলগত। তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন যে, তৃণমূলের কাছে ধর্ম কোনো ভেদাভেদের মাধ্যম নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে এই ভবানীপুরেই বড় হয়েছি। এখানে আমরা মন্দির, মসজিদ, গির্জা আর গুরুদ্বারের মধ্যে কোনো ফারাক দেখি না। উৎসবে আমরা সবাই একসাথে মাতি।”
এদিন বক্তৃতার মাঝে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিকেও পরোক্ষভাবে বিঁধেছেন। তিনি বলেন, “দেশের কোথাও কোথাও যখন বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা হয়, তখন ভবানীপুর দেখিয়ে দেয় কীভাবে শান্তিতে থাকা যায়।” নিজের কেন্দ্রের ভোটারদের প্রতি তাঁর এই আবেগঘন বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, তিনি নিজের ঘরের মাঠে কোনোভাবেই বিভাজনের রাজনীতিকে স্থান দিতে রাজি নন। মমতার এই ‘মিনি ইন্ডিয়া’ তকমা এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।