২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রিগেডে বিজেপির মেগা সমাবেশের আগেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকা। রবিবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হওয়া এই হিংসাত্মক ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে। গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে উভয় পক্ষেরই সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার বিকেলে, যখন বিজেপির ব্রিগেডমুখী মিছিল গিরিশ পার্ক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূলের ‘বিজেপি বয়কট’ ব্যানার ও ফ্লেক্স ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং দু’পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি শুরু করে। এই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে যান খোদ রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে দেয় এবং তাঁকে লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়। ঘটনায় মন্ত্রী নিজে এবং বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে তৃণমূল কর্মীরা অতর্কিতে হামলা চালায় এবং বহু কর্মী জখম হন।
এই ঘটনায় গিরিশ পার্ক থানার পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) মামলা দায়ের করেছে। একইসঙ্গে মন্ত্রীর বাড়ির ওপর হামলার প্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও আলাদা অভিযোগ জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। শনিবার রাতেই ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, রবিবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৯-এ দাঁড়িয়েছে। সংঘর্ষে বউবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্করসহ মোট ৮ জন পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকা থমথমে থাকায় প্রচুর পুলিশ এবং র্যাফ (RAF) মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে কলকাতার বুকে এই রাজনৈতিক হিংসা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।