দুর্নীতির পর এবার শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ‘দাদাগিরি’র বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিল তৃণমূল কংগ্রেস। ব্যারাকপুরে এক বৃদ্ধের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়ানোয় অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে আগামী ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড বা বহিষ্কার করল শাসকদল। রবিবার দলের পক্ষ থেকে এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিল যে, দলের পদ ব্যবহার করে জনমানসে প্রভাব খাটানো বা কোনো অনভিপ্রেত ঘটনায় নাম জড়ালে রেয়াত করা হবে না কাউকেই।
ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, সম্প্রতি ব্যারাকপুর পুরসভা এলাকায় একটি ক্লাব বা পুজো কমিটির দখলদারি নিয়ে গন্ডগোলের জেরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় কাউন্সিলর ও তাঁর দলবলের চাপের মুখে পড়ে এবং বচসার জেরে ওই বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান। বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের কানে পৌঁছতেই তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু হয়।
তৃণমূলের কড়া পদক্ষেপ: তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এই ধরনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬-এর আগে জনমানসে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন ঘাসফুল শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। তাই কোনো রকম দেরি না করে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, “ব্যক্তিগত অপরাধ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় দল নেবে না। অপরাধ প্রমাণিত হোক বা না হোক, অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
এলাকায় চাঞ্চল্য: দীর্ঘদিন ধরে ব্যারাকপুরের ওই এলাকায় অভিযুক্ত কাউন্সিলরের একক আধিপত্য ছিল বলে দাবি বিরোধীদের। শাসকদলের এই কড়া পদক্ষেপে একদিকে যেমন ক্ষুব্ধ কাউন্সিলর অনুগামীরা, তেমনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। পুলিশের পক্ষ থেকেও বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত জারি রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রাজনীতির ময়দানে এই সাসপেনশন যে এক বড়সড় চমক, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।