রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’। কিন্তু বারংবার অভিযোগ ওঠে, বহু বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোম এই কার্ড ফেরিয়ে দেয়। এবার সেই সমস্যা মেটাতে এক অভিনব এবং কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। বেসরকারি হাসপাতালগুলি যাতে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা দিতে বাধ্য হয়, তার জন্য এবার বড় ‘অফার’ ও ‘হুঁশিয়ারি’ দুই-ই দিল মেয়রের দপ্তর।
কী সেই বিশেষ ছাড়? কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক তাদের মোট শয্যার একটি নির্দিষ্ট অংশ স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখবে এবং কার্ড প্রত্যাখ্যান করবে না, তাদের জন্য বিশেষ কর ছাড়ের (Property Tax Rebate) ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, জনসেবামূলক কাজে সহযোগিতা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পকেটে স্বস্তি দেবে পুরসভা।
কড়া বার্তার নেপথ্যে কী কারণ? পুরসভার আধিকারিকদের মতে, অনেক হাসপাতাল লাইসেন্স নেওয়ার সময় স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজের সময় গড়িমসি করে। এর ফলে বিপাকে পড়েন সাধারণ নাগরিকরা।
-
ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে হুঁশিয়ারি: এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালের ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবার ট্র্যাক রেকর্ড খতিয়ে দেখা হতে পারে।
-
পরিদর্শন ও নজরদারি: পুরসভার প্রতিনিধি দল নিয়মিত বেসরকারি হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করবে এবং দেখবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য হেল্প ডেস্ক আছে কি না।
মেয়রের বার্তা: কলকাতা পুরসভার মেয়রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। হাসপাতালগুলো যদি পুরসভার এই কর ছাড়ের সুবিধা নিতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা চালু রাখতে হবে।
সাধারণ মানুষের সুবিধা কী? পুরসভার এই কড়াকড়ির ফলে শহরতলি ও কলকাতার সাধারণ মানুষ এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে আরও সহজে চিকিৎসা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাওয়ার দিন এবার হয়তো শেষ হতে চলেছে।