কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এখন আলোচনার তুঙ্গে ‘অষ্টম বেতন কমিশন’। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে জোরালো ইঙ্গিত মিলছে। তবে বেতন বৃদ্ধির খুশির খবরের মাঝেই একটি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে—নতুন পে কমিশন কার্যকর হলে জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬-এর ডিএ (DA) বকেয়া কি পাওয়া যাবে?
ডিএ বকেয়া নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে ডিএ-র গণিত পুরোপুরি বদলে যায়। এর কারণগুলি হলো:
শূন্য থেকে শুরু: সাধারণত নতুন বেতন কমিশন চালু হলে ডিএ ০% (শূন্য) থেকে শুরু করা হয়। ডিএ-র হারকে বেসিক পে-র সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
জানুয়ারি-জুন বিভ্রান্তি: যেহেতু জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর করার প্রস্তাব রয়েছে, তাই আলাদা করে ডিএ বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে জুলাই থেকে যখন ডিএ সংশোধিত হবে, তখন নতুন বেসিক পে অনুযায়ী বকেয়া পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
লক্ষাধিক টাকা বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব!
ন্যাশনাল কাউন্সিল (NC-JCM)-এর তরফে যে প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের লটারি লাগতে পারে:
ন্যূনতম বেতন: বর্তমানের ১৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৬৯,০০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ৩.৬৮ থেকে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের দাবি উঠেছে।
বার্ষিক বৃদ্ধি: প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
২ শতাংশ ডিএ-তে বর্তমানে কত লাভ?
১৮ এপ্রিল মোদী মন্ত্রিসভা যে ২ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে, তাতে বর্তমানে ডিএ ৫৮% থেকে বেড়ে ৬০% হয়েছে।
উদাহরণ: যদি আপনার বেসিক পে ৩০,০০০ টাকা হয়, তবে এই ২% বৃদ্ধিতে প্রতি মাসে হাতে আসবে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা। ১ কোটির বেশি কর্মী ও পেনশনভোগী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই এই বর্ধিত টাকা এরিয়ার বা বকেয়া-সহ পাবেন।
অষ্টম বেতন কমিশন কেন জরুরি?
১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন গঠন করার রীতি রয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশন ২০১৬ সালে কার্যকর হয়েছিল, তাই ২০২৬-এ অষ্টম কমিশন আসা এখন সময়ের দাবি। এর ফলে কর্মীদের বেতন এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়লেও ডিএ-র পুরনো বকেয়া নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির দিকে তাকিয়ে আছেন লক্ষ লক্ষ কর্মচারী।





